শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাথায় ‘বার্থডে টুপি’, জোড়া কেক কেটে মহিষের চতুর্থ জন্মদিন উদ্‌যাপন মুসলিম পরিচয়ে ২ নারী সাংবাদিককে থানায় আটকে পিটুনির অভিযোগ জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফাদের বিক্ষোভ, শিক্ষা সংস্কারের দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি ‘সাইবারক্যাব’ নামাল টেসলা ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার জব্দের নির্দেশ বাঘাইছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা তিতাস নদীতে ৫ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করল কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি উবারে ব্যাপক ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৩ হাজার ৪০০ কর্মী ব্র্যাকে জেলা পর্যায়ের চাকরি, স্নাতক পাসেই আবেদনের সুযোগ নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন আসছে রোববার ফের কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্যার জেরে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ মেসিকে সম্মান জানাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অভিনব আয়োজন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ প্রক্সি দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পার, চাকরিতে যোগ দিতে এসে ধরা পড়লেন প্রার্থী বাঘাইছড়িতে ৭২.৫৬ ঘনফুট অবৈধ সেগুন-গামারী কাঠ জব্দ করেছে ২৭ বিজিবি মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে টাকা তুলতে প্রথম দিনে ১৩০০ কোটি টাকার আবেদন সাড়ে পাঁচ মাস পর আজ রাতে দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

দার্জিলিংয়ের পাশে তিনচুলেতে লুকিয়ে আছে এক রূপকথার রাজ্য

  • আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৪ ১০:৪২:২৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৪ ০৮:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
দার্জিলিংয়ের পাশে তিনচুলেতে লুকিয়ে আছে এক রূপকথার রাজ্য
“তিনচুলে” একটু অদ্ভুত নাম টা তাই না? তিনদিকে পাহাড় বেষ্টিত ভারতের উত্তরবঙ্গের একটি ছোট্টো গ্রাম এই তিনচুলে। এই অদ্ভুত নামকরণের কারণ স্বরূপ যা জানা যায় তা হলো "তিন" অর্থাৎ three আর "চুলে" অর্থাৎ চুলা বা oven। তিনটি পাহাড় এই গ্রামকে যে ভাবে ঘিরে রেখেছে যা দেখতে একদম চুলার মতোই। সেই থেকেই এই নামকরণ তিনচুলে। নাম যেমন উদ্ভূত এবং অসাধারণ গ্রামটি দেখতেউ তেমন বিষণ সুন্দর। 

চটকপুর থেকে ভায়া ঘুম হয়ে এক ঝলকে লামাহাটা ইকো পার্কের সফর সেরে আমরা চলে আসি আমাদের অগ্রিম বুকিং করা হোটেলে। যাওয়ার সাথে সাথেই রুম দিয়ে দেওয়া হলো। একদম নতুন পরিষ্কার, পরিছন্ন আর বেশ বড়ো সরো ঘর পেলাম আমরা। 

ওই দিন হোটেলে মধ্যাহ্নভোজ সেরে সামনের রাস্তা ধরে একটু হাঁটতে বের হলাম। দূরের পাহাড়, রাস্তার দু ধারে সবুজ গাছের সারি আর তার মধ্যে থেকে ভেসে আসছে ঝিঁ-ঝিঁ পোকার ডাক। কি শান্ত, নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই সন্ধ্যা নেমে এলো। আমরাও হোটেলের পথে পা বাড়ালাম। এখানে ঠান্ডা কিছুটা কম হলেও তার দাপট ছিলো বেশ ভালোই। যত রাত গভীর হতে থাকলো এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যেনো গ্রাস করলো চারিদিকে।

পরের দিন সকাল হতেই তিনচুলে ভ্রমণ করে আমরা চলে যাবো আমাদের পরের গন্তব্যস্থলে।

হোটেলটির নাম তিনচুলে হিমালয় হোমস্টে। সেখানে খাওয়া মান বেশ ভালোই। খাবার সেরে প্রথমেই আমরা চলে গেলাম তিনচুলের চা বাগানে। রোদের আলোয় চা বাগানটি বেশ মনোমুগ্ধকর লাগছিলো দেখতে। এই সফরে এর আগে দেখেছিলাম মেঘে ঢাকা মহালদিরাম চা বাগানের মায়াবী রূপ আর আজ দেখলাম রৌদ্রজ্জল চা বাগানের ঝকঝকে এক সৌন্দর্য। দুই ভিন্ন ধরণের সৌন্দর্য চাক্ষুস করার সৌভাগ্য ঘটলো।
চিনচুলে জায়গাটিতেও পর্যটকদের আনাগোনা খুব কমই চোখে পড়লো। এই রকম নিরিবিলি জায়গার সন্ধানেই তো বেরিয়ে পরি যাযাবর এই মনটা নিয়ে।

চা বাগানে পর রওনা দিলাম বাড়ামাংয়ার কমলা বাগানের উদ্দেশ্যে। খুব বেশী দূর যেতে হলোনা আমাদের গাড়ি এসে থামলো এক সুবিশাল বাংলোর সামনে যার নাম অরেঞ্জ ভিলা। বাংলোর গেট থেকে শুরু হলো ফুলের সমারোহ যেদিকে চোখ যায় লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপী, বেগুনি ফুলগুলো যেনো সম্মোহণ করে রাখা। তবে এরপর আরো বড়ো কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ফুলের সম্মোহনে একাত্ব হয়ে চলতে, চলতে এসে দেখি চারিদিকে শুধুই কমলা রঙের বাহার। যতদূর চোখ যায় কমলালেবুর গাছ আর গাছে ভর্তি কমলালেবু। সম্মহণের বাকি অংশটা এখানেই ঘটে গেলো। কি অপূর্ব দৃশ্য বিশাল এলাকা জুড়ে গাছ ভর্তি কমলালেবু। মনে হলো এ যেনো এক স্বপ্নপুরী। গাছ ভর্তি ফল আর ফুলের সমারোহ যেনো ঠিক ছোটবেলার ঠাকুমার ঝুলির রূপকথার এক রাজ্য মনটা কোথায় হারিয়ে গেলো। 

হঠাৎ দিদি বলে কেউ ডেকে উঠলো, দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে ওই সব পর্যটকদের এই অরেঞ্জ ভিলা ঘুরিয়ে দেখায় আর সকলকে নিষেধ করে গাছে হাত না দিতে। সেই বাচ্চা মেয়েটি কমলালেবু এনে দিয়ে আমাদের বললো এগুলো আজ সকালেই গাছ থেকে মাটিতে পড়েছে তোমরা খাও। সত্যিই মাটিতে বেশ কিছু জায়গায় কমলালেবু পড়ে আছে যা আমাদের ও চোখে পড়লো। বেশ মিষ্টি স্বাদের সেই কমলালেবু আমরা খেলাম । অন্যদিকে বাচ্চাটি আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লো অন্য পর্যটকরা যাতে গাছের কোনো ক্ষতি না করে সেই দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে।

এবার এই স্বপ্নপূরীর মায়া ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়তে হবে। শেষবারের মতো দু চোখ ভোরে এই প্রকৃতির আস্বাদ নিয়ে এবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম দার্জিলিং এর পথে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : আরিজ উলফি মিথুন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাথায় ‘বার্থডে টুপি’, জোড়া কেক কেটে মহিষের চতুর্থ জন্মদিন উদ্‌যাপন

মাথায় ‘বার্থডে টুপি’, জোড়া কেক কেটে মহিষের চতুর্থ জন্মদিন উদ্‌যাপন